শনিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮
Home > অর্থ-বাণিজ্য > ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ

ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ

বিল্লাল হোসেন ॥
নরসিংদী: বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন পলাশ উপজেলা ঘোড়াশাল শিল্প এলাকার স্বনামধন্য বাংলাদেশ জুট মিলে ছয় সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ রয়েছে। মিলে পাট না থাকায় দৈনিক উৎপাদনও ৪২ টন থেকে ১০ টনে নেমে এসেছে। এতে মিলের প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সেই সাথে মিলের উৎপাদিত প্রায় ৪০ কোটি টাকা মূল্যের অবিক্রীত পাটজাত পণ্য মজুদ রয়েছে মিলের গুদাম ঘরে। স্থান সংকুলান না থাকায় উৎপাদিত ফিনিশিং বিভাগে যত্রতত্র পড়ে নষ্ট হচ্ছে তেমনি পণ্য বিক্রি না হওয়ায় মিল কর্তৃপক্ষ অর্থ সংকটে পড়তে হচ্ছে। বাংলাদেশ জুট মিলের পণ্য বিক্রি বাবদ বিজেএমসির কাছে ৭৩ কোটি টাকা পায় বাংলাদেশ জুট মিল। কিন্তু বিজেএমসি সময়মত টাকা না দেয়ার কারণে শ্রমিকদের বেতন ভাতাদি দিতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। মিলের সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক কর্মচারী বেতন ভাতাদি না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
শ্রমিক-কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সপ্তাহে মাত্র ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা মজুরি পান। কিন্তু একাধিক সপ্তাহের মজুরি বকেয়া থাকায় তাদের আর্থিক কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। অনেকে মজুরি না পেয়ে মিলে আসছেন না। তারা বিকল্প অর্থসংস্থানের উৎস হিসেবে বাজার বন্দরে কাজ করে ও রিকশা-ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।অনেক শ্রমিক কর্মচারী জানান, একাধিক সপ্তাহ ধরে মজুরী না দেয়ার কারণে কোন দোকানদার ও আমাদের বাকী সদাই দিচ্ছে না, ফলে খেয়ে না খেয়ে অতি কষ্টে পরিবার পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছি।
মিলের সিবিএ সভাপতি ইউসুফ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান জানান, ৫২০ তাঁতের এই জুট মিলটিতে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। পাট না থাকার দরুন ৫২০ তাতের মধ্যে চালু আছে মাএ ১০০ তাত। এক সময় বাংলাদেশ জুট মিলটি দেশের অন্যতম লাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু বিজেএমসি কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে মিলটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বিজেএমসি টাকা না দেয়ায় মিল কর্তৃপক্ষ চলতি সপ্তাহসহ ছয় সপ্তাহ যাবত শ্রমিকদের মজুরি ও চলতি মাসসহ দুই মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি দিতে পারছেন না।
তাত বিভাগের শ্রমিক জাহাঙ্গীর, কবির হোসেন, মিলের প্রবীণ শ্রমিক সিরাজ মোল্লা, ফিনিশিং বিভাগের রাশেদ মিয়া জানান, বাজারের সব কিছুর দাম বৃদ্বির মধ্যে ছয় সপ্তাহ ধরে আমাদের মজুরি বন্ধ। এ অবস্থায় আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। তারপর ও আমরা মিলের উৎপাদন অব্যাহত রেখেছি। অপরদিকে মিলের বিদ্যুৎ বিল প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা ও গ্যাস বিল ৬০ লাখ টাকা বকেয়া জমে গেছে। বকেয়া পরিশোধ জন্য কর্তৃপক্ষ বার বার বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করার নোটিশ দিচ্ছে। মিল কর্তৃপক্ষ গত ২০১১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ৬ বছরে মিলের চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচ্যুইটির টাকাও দিতে পারছেন না। এ পর্যন্ত মিলে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচ্যুইটির প্রায় ১৮ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ জুট মিলের কাছে পাট ব্যবসায়ীরা ৩২ কোটি টাকা পাওনা থাকায় এখন মিলে পাট ও সরবরাহ করছে না পাট ব্যবসায়ীরা।পাট না থাকায় যে কোন সময় মিলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন মিলের সিবিএ নেতারা।
এদিকে মিলের উৎপাদন বিভাগ থেকে জানা যায়, উৎপাদিত প্রায় ৪০ কোটি টাকার পাটজাত পণ্য মজুদ রয়েছে। মিল কর্তৃপক্ষ এসব পণ্য সময়মতো বিক্রি করতে না পারায় আর্থিক সংকটে পড়েছে। আর এ কারণে শ্রমিকদের মজুরি প্রদানে হিমশিম খাচ্ছে। নিয়মিত মজুরি প্রদান করতে না পারায় দেখা দিচ্ছে শ্রমিক অসন্তোষ। তাছাড়া বিজেএমসি পাট কেনার টাকা না দেয়ার কারনে উৎপাদন চালু রাখতে সংকটে পড়েছে।
এসব বিষয়ে বাংলাদেশ জুটমিলের মহাব্যবস্থাপক মোঃ গোলাম রব্বানীর সাথে কথা বললে তিনি বিজেএমসির অনুমতি ব্যতীত কথা বলতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন।