শনিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮
Home > জাতীয় > অরিত্রির আত্মহত্যা : মা-বাবার সঙ্গে শিক্ষিকার ভিডিও ভাইরাল

অরিত্রির আত্মহত্যা : মা-বাবার সঙ্গে শিক্ষিকার ভিডিও ভাইরাল

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
নকলের অভিযোগে স্কুল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারী (১৫) আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যা আগে অরিত্রির বাবা-মা সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসের সাক্ষাতের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের ভাইরাল হয়েছে।

৪ ডিসেম্বর বুধবার ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নাজনীন ফেরদৌসের কক্ষে প্রবেশের পর অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারী তার সামনের চেয়ারে বসেন। ওই সময় অরিত্রী ও তার মা পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ক্লিপটিতে কোনো অডিও না থাকায় তাদের কথোপকথন শোনা যায়নি।

অরিত্রির এ ধরনের আত্মহত্যা প্ররোচনামূলক বলে বিবেচিত। কারণ নকল ধরা পড়ার পর স্কুলে ডাকা হয় বাবা দিলীপ অধিকারী ও মা বিউটি রানীকে। মেয়ের সামনে মা-বাবাকে অপমান করা হয়। এ সময় অরিত্রি প্রিন্সিপাল ম্যাডামের পা ধরে পরীক্ষা দেয়ার জন্য কান্নাকাটি করলেও তিনি কোনোমতেই পরীক্ষা দিতে দেননি। বরং টিসি দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

ঘটনার দিনের কথা বর্ণনা দিয়ে দিলীপ অধিকারী বলেন, অরিত্রিকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেবে না এমন সংবাদ পেয়ে মেয়ে আমাদের স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করে।

স্কুলে যাওয়ার পরে আমাদের পদে পদে অপমান করা হয়। স্কুলে ঢুকতেই ঘাম ঝরে যায়। স্কুলে গিয়ে প্রথমে ভাইস প্রিন্সিপালের রুমে যাই। এর পর অরিত্রির কথা ওঠাতে তিনি ক্ষেপে গিয়ে বলেন, কেমন মেয়ে মানুষ করেছেন, পরীক্ষায় নকল করে? আমরা ওর ব্যাপারে গভর্নিংবডির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। এ সময় আমরা মেয়ের হয়ে ক্ষমা চাই। কিন্তু তিনি কোনো কিছুই শুনতে রাজি হননি।

তার কিছুই করার নেই জানিয়ে প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। এর পর অরিত্রিকে সঙ্গে নিয়ে প্রিন্সিপালের রুমে যাই। সেখানে যাওয়া মাত্রই প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বলেন, ‘ও আপনিই অরিত্রির বাবা! ওর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হবে না। কেস ফাইল করা হয়েছে। কালকে এসে টিসি নিয়ে যাবেন। আমি তখন ম্যাডামকে মেয়ের হয়ে ক্ষমা চাই। এর মধ্যেই অরিত্রি ম্যাডামের পা ধরে কান্না করে ক্ষমা চায়। কিন্তু তিনি কিছুতেই অরিত্রিকে ক্ষমা করতে রাজি হননি। পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি।’

দিলীপ অধিকারী আরও বলেন, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে অরিত্রির আরও একটি পরীক্ষা ছিল। ওই পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য খুব চেষ্টা করেছিল মেয়ে আমার।

ম্যাডামের কাছে আমরা বারবারই অনুরোধ করেছি- সন্তান ভুল করেছে, এবারের মতো ক্ষমা করে দিন। কিন্তু তিনি কোনোমতেই রাজি হননি। এর মধ্যে অরিত্রি ম্যাডামের রুম থেকে কখন যে বেরিয়ে যায় আমরা খেয়াল করিনি।

মেয়েকে না পেয়ে কলেজের ভেতর অনেক খোঁজাখুঁজি করি। কিন্তু সবার একই পোশাক হওয়ায় বুঝতে অসুবিধা হয়। এর মধ্যে আমি ওর মাকে বাসায় পাঠিয়ে দিই। মেয়ে বাসায় গেছে কিনা খোঁজ নিতে।

অরিত্রির মা বিউটি রানী বলেন, ‘আমি বাসায় পৌঁছে দেখি মেয়ে বাসায় এসে কান্না করছে। আমি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলি-সব ঠিক হয়ে যাবে মা। এর মধ্যে সে তার নিজের রুমে ঢুকে বেডে শুয়ে পড়ে। আমি পাশের রুমে অরিত্রির জন্য পেয়ারা কাটতে যাই। পেয়ারা নিয়ে যেতেই দেখি দরজা বন্ধ।

তখন আমি দৌড়ে দরজায় ধাক্কা দিয়ে অরিত্রিকে ডাকাডাকি করি। কোনো শব্দ না পেয়ে ওর বাবাকে জানাই। এর মধ্যে বাসার কাজের লোকজনকে ডেকে দরজা ভেঙে রুমে প্রবেশ করে দেখি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে আমার মা।’

উল্লেখ্য, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকলের অভিযোগ তুলে বাবা-মাকে ডেকে অপমান ও টিসি দেয়ার কথা বলায় রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শান্তিনগর শাখার নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি (১৫) গত ৩ ডিসেম্বর দুপুরে আত্মহত্যা করে।