রবিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২০
Home > সারাদেশ > কালীগঞ্জে ভাতার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না অঞ্জু রানীর

কালীগঞ্জে ভাতার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না অঞ্জু রানীর

মো. ইব্রাহীম খন্দকার
কালীগঞ্জ ব্যুরো ॥
গাজীপুর: কালীগঞ্জে স্বামী পরিত্যক্তা ৬০ বছরের বৃদ্ধা অঞ্জু রানী দাসের ভাতা টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না।

সোমবার বিকেলে কালীগঞ্জ কৃষি ব্যাংক থেকে স্বামী পরিত্যক্তা ভাতার টাকা নিয়ে বাড়ির ফেরা পথে বাসস্ট্যান্ড পার হওয়ার সময় দুই বাসের মধ্যে চাপা পড়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত অঞ্জু রানী দাস কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড মুনশুরপুর গ্রামের মৃত পরেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় ও নিহতের পরিবারের মাঝে শোকের মাতম বইছে।

নিহতের বড় ভাই নারায়ণ চন্দ্র দাসসহ তার পরিবারের লোকজন জানান, ৪৫ বছর আগে রুপগঞ্জের কায়েতপাড়া গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র দের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মাথা স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে বনিবনা না হওয়ায় তিনি বাপের বাড়ি কালীগঞ্জের মুনশুরপুরে চলে আসেন। তারপর থেকে সে তার বাপের বাড়িতেই থাকতো। সোমবার বিকেলে কালীগঞ্জ কৃষি ব্যাংক থেকে স্বামী পরিত্যক্ত ভাতার টাকা নিয়ে বাড়ির ফেরার পথে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পৌঁছলে কালীগঞ্জ পরিবহন লিমিটেড (কেটিএল) (ঢাকা মেট্রো-জ ১১-৩০০৫) বাসটি (গাজীপুর মেট্রো-জ ০৪-০৩৪৫) নম্বর বাসকে চাপা দেয়। এ সময় দুই বাসের মধ্যে চাপা পড়ে অঞ্জু রানী দাস গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এদিকে ঘটনার পর থেকে বাস চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত বাস দুটি থানায় নিয়ে যায়। কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুর রহমান মল্লিক নিহতের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।

এই ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মিজানুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে বাস দুটি আটক হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে বাসচালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।