রবিবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২০
Home > সারাদেশ > কালীগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় রোগী নিহতের অভিযোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভাংচুর

কালীগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় রোগী নিহতের অভিযোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভাংচুর

কালীগঞ্জ ব্যুরো ॥
গাজীপুর: গাজীপুরের কালীগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় রোগী নিহতের অভিযোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাংচুর চালিয়েছে স্বজনরা। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো: মোবারক হোসেন (৩০) কালীগঞ্জের বড়নগর গ্রামের মো: মোজাম্মেল হকের ছেলে।

প্রত্যক্ষ সূত্রে জানা যায়, সকাল পৌনে ৯টার দিকে মোবারকের বুকের ব্যথা উঠলে তার স্বজনরা কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। পরে তাকেজরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুশফিক-উস সালেহীন প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং তার ইসিজি করান। ইসিজির রিপোর্টের পর তাকে কিছু ঔষধ দেন এবং স্পেশাল কার্ডিওলজিকে দেখানোর পরামর্শ দিয়ে ওই রোগীকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে রোগীর স্বজনরা তাকে হাসপাতালে না নিয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বড়নগর বাড়িতে নিয়ে যান। ঘন্টাখানিক পর ওই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে পুন:রায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন রোগীকে জরুরি বিভাগের বেডে বসিয়ে গ্যাস স্প্রে দেওয়া হয়। হঠাৎ মোবারক বেড থেকে নিচে পড়ে যায়। তার নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে যাকে এবং রক্ত বমি করে। চিকিৎসক তাকে দ্রুত গাজীপুরে নেয়ার জন্য রোগীর স্বজনদের বলেন।

পরে স্বজনরা বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে ঢাকা হাসপাতালে নেয়ার পথে পূবাইল থানার মীরেরবাজার পৌছলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে তালটিয়া এলাকায় করমতলা খ্রিষ্টান হাসপাতালে স্বজনরা নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মোবারক মারা গেছেন বলে স্বজনদের তিনি জানান।

পরে নিহতের স্বজনরা কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে হাসপাতালের ভেতর ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় সেবা নিতে আসা রোগীরা দৌড়িঁয়ে হাসপাতাল থেকে বের হতে থাকে।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শিবলী সাদিক, কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত ও কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) কেএম সোহেল রানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হামলাকারীদের শনাক্ত করার জন্য হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেন পুলিশ প্রশাসন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. ছাদেকুর রহমান আকন্দ হাসপাতালে রোগীর স্বজনরা ও বহিরাগতরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, হামলার সময় তিনি হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে একটি মিটিংয়ে ছিলেন। রুম থেকে বের হয়ে দেখেন ১০/১৫ জনের একদল যুবক হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করছে।

জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুশফিক-উস সালেহীন জানায়, সকালে বুকে ব্যথা নিয়ে ওই রোগী হাসপাতালে আসলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। স্পেশাল কাডিওলজিকে দেখানোর পরামর্শ দিয়ে ওই রোগীকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বেলা বারোটা পাঁচচল্লিশ মিনিটে রোগীর স্বজনরা কেউ কিছু না বলে হাসপাতালের ভেতর ঢুকে ভাঙচুর চালায়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) কেএম সোহেল রানা জানান, ঘটনার পর হাসপাতালে গিয়ে তথ্য উপাত্ত নেয়া হয়েছে। কারা হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে তাদের শনাক্ত করার জন্য সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. ছাদেকুর রহমান আকন্দ বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শিবলী সাদিক বলেন, হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। ভাঙচুর চালিয়ে যারা সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।