শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
Home > আন্তর্জাতিক > কাশ্মীরে লাখ লাখ সেনা মোতায়েন করতে হবে কেন: অরুন্ধতী

কাশ্মীরে লাখ লাখ সেনা মোতায়েন করতে হবে কেন: অরুন্ধতী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
এবার কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানালেন ভারতের স্বনামধন্য লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায়।

তার প্রশ্ন- হঠাৎ করে তাদের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নিয়ে লাখ লাখ সেনা মোতায়েন করে তাদের প্রতিবাদ করার অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছে ভারত সরকার।

এ ব্যাপারে নিউইয়র্ক টাইমসে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাতে কাশ্মীরের বর্তমান সেনা অভিযান নিয়ে অরুন্ধতী রায় তার উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছেন।

প্রভাবশালী ওই মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি লেখেন, ‘কাশ্মীরের নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও ব্যারিকেডে ঘেরা রাস্তাগুলোতে এখন সুনসান নীরবতা, লাখ লাখ মানুষ অবরুদ্ধ ও অপদস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

কাঁটাতারে বন্দি এসব মানুষের ওপর ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে পুরোপুরি অচলাবস্থার মধ্যে বাস করতে হচ্ছে তাদের।

যদি তথ্যপ্রবাহের এ যুগে সরকার এত সহজে গোটা জনসংখ্যাকে বাকি দুনিয়া থেকে কয়েক দিন ধরে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে পারে। তবে সামনের সময়গুলো কেমন হবে তা গুরুতরভাবে ভাবনার বিষয়।’

নিউইয়র্ক টাইমসে লেখা নিবন্ধে এভাবেই কাশ্মীরের সাম্প্রতিক সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন স্বনামধন্য এ লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার যেখানে নিজেই দাবি করে যে গুটিকয়েক জঙ্গি ছাড়া বেশিরভাগ মানুষ তাদের সমর্থন করে, সেখানে কেন লাখ লাখ সেনার উপস্থিতি।

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়।

জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা।

রাজ্য পুলিশসহ সেখানে প্রায় ৭ লাখ নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে, যা উপত্যকাকে বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকীকৃত এলাকায় পরিণত করেছে।

৩৭০ ধারা বাতিলের আগ মুহূর্তে জম্মু-কাশ্মীরে আধাসামরিক বাহিনীর ৩৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরে নতুন করে সেখানে নিয়োজিত হয় আধাসামরিক বাহিনীর আরও ৮ হাজার সদস্য।

নিবন্ধে বলা হয়, গত ৩০ বছরে কাশ্মীরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যা কিছু করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। কাশ্মীর সংঘাতে বেসামরিক, সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। লাখো মানুষ গুম হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে।