রবিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২০
Home > শিক্ষাঙ্গন > গাজীপুরে প্রাথমিক সমাপনিতে ‘প্রসংশাপত্র’ প্রদানে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

গাজীপুরে প্রাথমিক সমাপনিতে ‘প্রসংশাপত্র’ প্রদানে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
বিশেষ প্রতিনিধি ॥
গাজীপুরে বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুল গুলোতে সমাপনি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ‘প্রসংশাপত্র’ প্রদানে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে শিক্ষা অফিস থেকে এক আদেশপত্রে সর্তক করা হলেও তা মানেনি অধিকাংশ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ।

জানা যায়, গত ৫ ডিসেম্বর গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট টিআইবি’র আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোঃ রাশেদুজ্জামান লিটন বিদ্যালয় গুলো প্রসংশাপত্র প্রদানসহ নানাবিদ বিষয়ে অর্থ আদায়ে সুনির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ উত্থাপন করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তা গাজীপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ খলিলুর রহমান আদেশ প্রাপ্ত হয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর (স্মারক নং- উশিঅ/সদও/গাজী/২০১৯/৯৫৯) এক অফিস আদেশে সদর উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ২০২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি বাবদ, নম্বর ফর্দ, প্রসংশাপত্র ও পাঠ্যপুস্তক বিতরণে অর্থ আদায় না করার জন্যে শর্ত করান। এ আদেশ কিছু বিদ্যালয় মানলেও অধিকাংশ বিদ্যালয় মানে নি।

এ সব অভিযোগের তীর ছোড়েন জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়দেবপুর জকি স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ দুটি বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবকও অর্থ আদায়ের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এরমধ্যে অনেক অভিভাবকদের সাথে প্রায় সময় ধমক দিয়ে কথা বলাসহ রুঢ় আচরণের অভিযোগ করেন জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুন্নেছার বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগের বিষয়ে আজ রোববার সকালে জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুন্নেছা বলেন, এ বছর ১৯৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশ করেছে। এরমধ্যে দুই/একজনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে এক/দুইশ টাকা নেয়া হয়েছে। তবে ঢালাও ভাবে টাকা নেয়ার কথা সঠিক নয়।
পরে পাশবর্তী জয়দেবপুর জকি স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে তা বন্ধ থাকায় মোবাইল ফোনে প্রধান শিক্ষক মাহবুবা রহমানের সাথে কথা হয়। তিনি ওই বিদ্যালয়ের ২৬০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস এবং ১১৫জন এ প্লাস পাওয়ার সফলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, কেবল মাত্র নম্বর ফর্দ বিতরণে ছাপা খরচ বাবদ ২০ টাকা নিয়েছি। প্রসংশাপত্রে কোন টাকা নেইনি।

শিক্ষা অফিসের আদেশপত্রের পরও তা অধিকাংশ বিদ্যালয় না মানার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন টিআইবি’র আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোঃ রাশেদুজ্জামান লিটন। তিনি বলেন, অফিস আদেশের পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং’র অভাব ছিল।