বুধবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৯
Home > গ্যালারীর খবর > গাজীপুরে ভূমি অধিগ্রহণের এক কোটি ৭০ লাখ টাকা লোপাটের প্রমাণ মিলেছে

গাজীপুরে ভূমি অধিগ্রহণের এক কোটি ৭০ লাখ টাকা লোপাটের প্রমাণ মিলেছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥
গাজীপুরে একটি জালিয়াতচক্রের ভূমি অধিগ্রহণের এক কোটি ৭০ লাখ টাকা লোপাটের প্রমাণ মিলেছে। গত ১১ জুলাই গাজীপুর সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে জানা যায়, যে দলিল দিয়ে টাকা লোপাট করা হয়Ñ ওই দলিলের নকলের সাথে সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডপত্রের কোন মিল পাওয়া যায়নি। এরপর গত ২০ আগস্ট জালিয়াত চক্রের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে গাজীপুর সদর থানায় মামলা (নং ৪৫) দায়ের হয়। গাজীপুর সিটির জোড়পুকুর এলাকার আব্দুল হান্নান মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলো- শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল বছির সরকারের ৮ ছেলে মহাম্মদ আলী, আহাম্মদ আলী, এবাদত আলী, মোজাম্মেল হক, মিনাজদ্দিন, করম আলী, মেহের আলী, জুলহাস উদ্দিন সরকার ও কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়ীয়ার মোঃ উজ্জল সরকার ও মোঃ সহিদ সরকার। প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ঘষামাজা (টেম্পারিং) করে নামজারি সৃজন করার অভিযোগে মামলাটি দায়ের হয়।
ঘটনা সংশ্লিষ্ট তথ্য সূত্রগুলো বলছে, জমির রেকর্ডিয় মালিক মৃত তজিম উদ্দিন সরকারের ওয়ারিশদের দাবি পুরোপুরি অগ্রাহ্য করেই ভূমি অধিগ্রহণের এক কোটি ৭০ লাখ টাকা তুলে দেয়া হয় জালিয়াতচক্রের হাতে। এই টাকার ভাগ পকেটে পুরেছেন যারা এ অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করেছেন তারাও।
কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় গাজীপুরের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা মৌজার এক দশমিক বারো একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ৬ ধারা নোটিশ দেয়া ১৩ জনকে। এদের মধ্যে (এলএ কেস নং-১০/২০১৬-২০১৭) ৩নং নোটিশ প্রাপক মো. মতিউর রহমান টাকা উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে সিআর মোকাদ্দমা (নং ৭৯৯) করেন। অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (শ্রীপুর) গাজীপুরে এ মোকাদ্দমাটি তিনি দায়ের করেন ২০১৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। এর দশ দিন আগে ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি এ বিষয়ে শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডাইরি (নং ৫৪১) করেন।
সিআর মামলার আরজিতে বাদী দাবি করেন, পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে তিনি মাওনা মৌজায় এসএ খতিয়ান নং ১৮৪৫, এসএ দাগ নং ৪৮৬৬ ও আরএস খতিয়ান নং ১৬৪৬, আরএস দাগ নং ২২০৭৭ এর দশমিক ৬৬ একর জমির মালিক।
তিনি অভিযোগ করেন, বিবাদী মহাম্মদ আলী, আহাম্মদ আলী, এবাদত আলী, মোজ্জামেল হক, মিনাজদ্দিন, করম আলী, মেহের আলীসহ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহম্মেদ পরস্পর যোগসাজশে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাৎ করার জন্য ভুয়া মালিক সেজে বাদীর পরিবর্তে নিজেরাই স্বাক্ষর করে অঙ্গীকার নামা দিয়ে একটি মিস মোকদ্দমা দায়ের করেন। এবং বাদীর নাম স্বাক্ষর করে একটি অনাপত্তিপত্র দিয়ে বাদীর নামজারি জমাভাগ বাতিলের আবেদন করেন। পরে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহম্মেদ সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট মাত্র একদিনের মধ্যে আসামীদের নামে নামজারি ও জমাভাগ করিয়ে দেন। এর আগের দিন একইভাবে অস্বাভাবিক দ্রুততায় বাদীর নামজারি ও জমাভাগ বাতিলের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করান। একতরফা প্রক্রিয়ায় নামজারি জমাভাগ বাতিলের পর আইনগতভাবে তিন মাস আপিলের সময় অতিবাহিত হতে না দিয়ে পরের দিন-ই বিবাদীদের নামজারি জমাভাগ করে দেয়া হয়। এর চার দিনের মাথায় ২৪ আগস্ট মো. মতিউর রহমান তাকে ছাড়া অন্য কারো নামে অধিগ্রহণের বিল প্রদান না করার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় লিখিত আবেদন করেন। এরপর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদালত, গাজীপুরে মো. মতিউর রহমান গং মিস আপীল মোকাদ্দমা (নং-৩২৭/১৭) করেন। এ অবস্থায় চলমান মামলাগুলো নিষ্পত্তির অপেক্ষা না করেই অধিগ্রহণের সমুদয় বিল বিবাদীদের দিয়ে দেয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জমি অধিগ্রহণের এক কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উঠিয়ে নেয় জালিয়াতচক্র।
এদিকে গত ১১ জুন মিস আপীল মোকাদ্দমায় (৩২৭/১৭) তফসিলি জমির দলিল নং ৬০০৮ তাং ২০/০৪/১৯৭২ এর সার্টিফাইড কপির সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য জেলা রেজিস্ট্রারকে পত্র প্রেরণের আদেশ দেন অতিঃ জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)। গত ১১ জুলাই গাজীপুর সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস ওই পত্রের বিষয়ে লিখিত প্রতিবেদন পাঠায়। এ প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই নকলের (যে দলিল দিয়ে টাকা লোপাট করা হয়) সাথে সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডপত্রের কোন মিল পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আগামি ১ অক্টোবর অধিকতর শুনানীর জন্য দিন ধার্য্য রয়েছে।