বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০১৯
Home > শীর্ষ খবর > গাজীপুরে সংবাদ সম্মেলন : একই জমি তিনবার বেচাকেনা

গাজীপুরে সংবাদ সম্মেলন : একই জমি তিনবার বেচাকেনা

স্টাফ রিপোর্টার ॥
একই জমি তিনবার কেনাবেচার এক চাঞ্চল্যকর বিষয়ে রবিবার ঘটনাস্থল গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার বনখড়িয়ায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বনখড়িয়া মৌজার ১১.১১ একর জমি প্রথম দফায় যারা কিনেছেন তারা এ সংবাদ সম্মেলন এর আয়োজন করেন। মোট ২২ জন ভূক্তভোগী ক্রেতার পক্ষে এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জয়নাল আবেদীন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কতিপয় ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী-প্রতারকচক্র আমাদের ক্রয়কৃত জমি অবৈধভাবে জবর দখল করার অপচেষ্টা করছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করার পরও শ্রীপুর থানা পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

তিনি আরও জানান, বনখৈরা মৌজাস্থিত সিএস ১২২, ১৮০ ও ১৮১ নং খতিয়ানে ১১.১১ একর জমির রেকর্ডিয় মালিক ছিলেন অধর চন্দ্র কোচ। তিনি মারা যান দুইপুত্র রামনিধি ও যোগেশকে উত্তোরাধিকার রেখে। পরে রামনিধির নাতি হরেকৃষ্ণ ওই সম্পত্তির উত্তোরাধিকার হিসেবে বিগত ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সনের মধ্যে বিভিন্ন তারিখে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট ৫৫৪ শতাংশ জমি বিক্রয় ও হস্তান্তর করেন।

অপরদিকে রামনিধির সহোদর যোগেশ চন্দ্র কোচ এসএ ১৮০, ১২২, ১৮১ নং খতিয়ানে নিজ নাম রেকর্ডভুক্ত করান। যোগেশ মারা গেলে তার স্ত্রী শ্রীমতি ওরফে হাজেরা খাতুন যোগেশের উত্তোরাধিকারী দুই নাবালক পুত্র গোবিন্দ ওরফে রকমান ওরফে গণি ও জ্যোতিষ ওরফে নূরুল ইসলাম ওরফে লতিফ এবং নাবালিকা কন্যা যশোদা ওরফে হালিমাদের সম্পত্তি বিক্রয়ের জন্য আদালতের অনুমতি প্রাপ্ত হন। অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন তারিখে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট মোট ৬৭৯.৫ শতাংশ সম্পত্তি বিক্রয় ও হস্তান্তর করেন। যদিও তারা মাত্র ৫৯৩ শতাংশ সম্পত্তির মালিক ছিলেন। অর্থাৎ মালিকানার চাইতে ৮৬.৫ শতাংশ সম্পত্তি অতিরিক্ত বিক্রি করেন তারা।

এদিকে যোগেশের পরিবারের সকল সদস্য ১৯৮০ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন। তখন নাবালক থেকে সাবালক হয়ে উঠা পুত্র গোবিন্দ ‘রকমান’ও জ্যোতিষ ‘নূরুল ইসলাম’ এবং কন্যা যশোদা ‘হালিমা’ এবং স্ত্রী শ্রীমতি ‘হাজেরা খাতুন’ নাম ধারণ করেন। এই নতুন নামে পূর্বে উল্লেখিত তফসিলি সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রির দলিল সম্পাদন করেন।এরপর ২০০৩ সালে যোগেশের পুত্র গোবিন্দ ওরফে রকমান ও জ্যোতিষ ওরফে নূরুল ইসলাম পুনরায় তাদের নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে ‘গণি খান’ ও ‘লতিফ’ নাম ধারণ করেন। এবং সর্বশেষ পরিবর্তিত নামে ওই সম্পত্তির তৃতীয় দফা হস্তান্তর দলিল সম্পাদন করেন।

বর্তমানে তৃতীয় দফায় সম্পাদিত দলিলের গ্রহিতা আঃ হক গং এই সম্পত্তি দখলের জন্য সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে প্রকৃত মালিক হলেও আমাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করছে। প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদেরকে জমি থেকে উচ্ছেদের নানা ফন্দিফিকির করে যাচ্ছে। কয়েক দফা সন্ত্রাসী হামলা ও লুটতরাজের ঘটনায় আমরা প্রতিপক্ষ আঃ হকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় শ্রীপুর থানা ও গাজীপুর পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ পেশ করেছি। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আমাদের অভিযোগ শ্রীপুর থানায় মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়ে কোন সক্রিয় ভূমিকা পালন করে নাই। বরং অবৈধ দখলদারিত্বে নিয়োজিত আঃ হক গং এর বানোয়াট অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করে অনৈতিক, পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করে আসছে।

এ অবস্থায় আমরা ন্যায় বিচারের স্বার্থে তফসিলি জমির প্রকৃত মালিকগণ ওই ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী-প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ষড়যন্ত্রমূলক মামলাগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

অপরদিকে প্রতিপক্ষ আঃ হক জানান, এ জমির বিষয়ে প্রতিপক্ষ ভূমি আপিল বোর্ডে মামলা নং ৩-১১৬/২০১৩ (নাম:) আপিল, গাজীপুর দাখিল করেন। ওই আপিল না-মঞ্জুর হয়। ফলে ওই জমির নামজারি ও জমাভাগ এবং খাজনা খারিজ আমাদের নামে হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ দাবি করেন ১৯৮০ সালের ৭ নভেম্বর হলফ নামায় যোগেশের পুত্র আ: রহমান যার নাম শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র বর্মন তার বয়স ১২ বছর ও নুরুল ইসলাম যার নাম শ্রী জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মন তার বয়স ৯ বছর ছিল। কাজেই ১৯৮১-৮৫ সালের মধ্যে তারা নাবলক-ই ছিল। এ সময়ের মধ্যে সম্পাদিত দলিলগুলোতে আদালতের অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে ‘নাবালকের পক্ষে” কথাটিও উল্লেখ করা নাই।

এছাড়াও ১৯৭৭ সালের ২৯ জুন রামনিধি জীবিত ছিলেন। এর আগেই তার মেয়ের ঘরের নাতি হরেকৃষ্ণ কী করে ওই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ মে তারিখের মধ্যে সাতটি দলিল করে দেয়। নানা জীবিত থাকা অবস্থায় তা বৈধ বা আইনসংগত নয়।