রবিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯
Home > জাতীয় > পানিসংকটে চরম ভোগান্তি

পানিসংকটে চরম ভোগান্তি

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
ভূিগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পৌর এলাকার অধিকাংশ নলকূপে এখন আর পানি উঠছে না। আর পৌরসভা কর্তৃপক্ষও গভীর নলকূপের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী পানি উত্তোলন করতে পারছে না।

ফলে একদিকে পানির অভাব, অন্যদিকে পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আয়রনের উপস্থিতির কারণে মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌর এলাকার চার লাখ বাসিন্দার দুই লাখই পৌরসভার সরবরাহ করা পানি ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু কিছুদিন ধরে তারা বাড়ির থালাবাসন ধোয়ার মতো পানিও পৌরসভা থেকে পাচ্ছে না। ফলে শহরের প্রতিটি বাসাবাড়িতেই পানির অভাবে দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। আর যে পানিটুকু পাওয়া যাচ্ছে তাতেও মাত্রাতিরিক্ত আয়রনের উপস্থিতির কারণে মানুষকে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অথচ কয়েক বছর আগে কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা আয়রন রিমুভাল প্লান্ট কোনো কাজেই আসছে না। পৌর এলাকার কালিশংকরপুরের সরকারি চাকরিজীবী আবু মাসউদ বলেন, আগে প্রতিদিন সকালে দুই ঘণ্টা, দুপুরে দুই ঘণ্টা ও সন্ধ্যায় দেড় ঘণ্টা করে বাড়িতে পৌরসভার সরবরাহ করা পানি পাওয়া যেত। বর্তমানে সকাল ও সন্ধ্যায় চাহিদামতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। দুপুরে ১০-১৫ মিনিট পানি পাওয়া যায়, তাও আয়রনমিশ্রিত।

একই অভিযোগ করেন শহরের অম্বিকা চরণ মুখার্জী সড়কের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, পনেরো দিন আগেও তিনি নিয়মিত পানি পাচ্ছিলেন। কিন্তু এখন সারা দিনে থালাবাসন ধোয়ার মতো পানিও সময়মতো পাচ্ছেন না। দূর থেকে পানি সংগ্রহ করে তিনি আপাতত প্রয়োজন মেটাচ্ছেন।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য জহুরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা পৌরসভাকে ট্যাক্স দিয়ে আয়রনযুক্ত পানি নিচ্ছি! একটা প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় এটা হওয়ার কথা না। তার পরও হচ্ছে। ’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, দিনে দিনে পৌরসভার পরিধি বাড়ছে, অথচ সেবার মান বাড়ছে না।

পৌসভার পানি বিভাগের প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাসস্থল কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় ৭০ শতাংশ মানুষ দৈনিক আট হাজার গ্রাহকের মাধ্যমে পৌরসভার পানি ব্যবহার করে থাকে। কুষ্টিয়া পৌরসভা ১১টি গভীর নলকূপ থেকে তিনটি ওভারহেড ট্যাংক ও তিনটি আয়রন রিমুভাল প্লান্টের মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রতিদিন এক লাখ ৩০ হাজার লিটার পানি সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু গ্রাহকরা রিজার্ভ ট্যাংক না করে পানি সরবরাহের প্রধান লাইনের সঙ্গে সরাসরি মোটর লাগিয়ে পানি উত্তোলন করায় পৌরসভা পানির চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।

পৌরসভার একটি সূত্র জানায়, পৌর এলাকার আট হাজার গ্রাহকের মধ্যে এক হাজারই অবৈধভাবে প্রধান পানি সরবরাহ লাইনে মোটর লাগিয়ে পানি টেনে নিচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে পৌরসভা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

অবশ্য প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে তাঁরা এ রকম অনেক গ্রাহকের পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে মোটর খুলে নিয়ে এসেছেন।

পৌর এলাকার কোর্টপাড়া, থানাপাড়া, মিলপাড়া, আড়ুয়াপাড়া, টালিপাড়া, হাউজিং, কালিশংকরপুর, কুঠিপাড়া, মজমপুর, আমলাপাড়া ও কমলাপুর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন আবাসিক ভবনসহ বিশেষ করে সরকারি ভবনগুলোতে পানির অপচয় বেশি হচ্ছে। পৌর এলাকার চরাঞ্চলগুলোতে পানিসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। পৌর এলাকার প্রায় তিন হাজার নলকূপের অধিকাংশই পানি না ওঠায় অকেজো হওয়ায় পৌরবাসীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্যাপ কলের কাছে দাঁড়িয়ে থেকে পানি নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বাসাবাড়িতেও এ সংকট দেখা দেওয়ায় গোসল, রান্নাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে পানি ব্যবহার খুব দুরূহ হয়ে পড়েছে।

শহরের আড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা ইসমত আরা বলেন, ‘পানি কখনো থাকে আবার কখনো থাকে না। কিন্তু বেশ কিছুদিন হলো কাজের সময়টাতেই পানি থাকে না। ’

এ ব্যাপারে পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা নিরুপায়। কেননা বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের কারণে চাহিদামতো পানি উত্তোলন করতে না পারায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘যে পরিমাণ পানি আমরা সরবরাহ করে থাকি, তাতে গ্রাহক যদি পানির অপচয় না করত এবং অবৈধভাবে পানি সরবরাহ লাইনের সাথে মোটর লাগিয়ে পানি উত্তোলন না করত তাহলে পানিসংকট এত প্রকট আকার ধারণ করত না। ’

মেয়র বলেন, প্রতি মাসে পানি খাতে পৌরসভাকে অনেক টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এর পরও গ্রাহকদের পানির চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না, শুধু মানুষের অসচেতনতার কারণে।কালের কণ্ঠ