রবিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২০
Home > অর্থ-বাণিজ্য > ‘পাবলিক-প্রাইভেট সেক্টরের মধ্যে সম্পর্ক বাড়াতে হবে’

‘পাবলিক-প্রাইভেট সেক্টরের মধ্যে সম্পর্ক বাড়াতে হবে’

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
পাবলিক এবং প্রাইভেট সেক্টরের মধ্যে একটা শক্ত মেলবন্ধন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘দুই সেক্টরের মধ্যে আরও সম্পর্ক বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে’।

রোববার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড (ইআরএফ) বা রফতানি প্রস্তুতি তহবিল কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা জানান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইআরএফ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় ইসিফোরজে প্রকল্পের একটি ম্যাচিংগ্রান্ট কর্মসূচি। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ইআরএফ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। কর্মসূচিটি বাংলাদেশের চারটি সম্ভাবনাময় খাতের রফতানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এসব খাত হচ্ছে- চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, প্লাস্টিক এবং হালকা প্রকৌশলপণ্য। বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় পরিবেশগত, সামাজিক এবং গুণগত মান পরনের জন্য যোগ্য ও আগ্রহী উদ্যোক্তাদের ম্যাচিং গ্র্যান্ট প্রদান করবে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘প্রাইভেট সেক্টর এবং পাবলিক সেক্টরের মধ্যে একটা শক্ত বুনিয়াদ দরকার। দুই সেক্টরের মধ্যে ভালো সম্পর্ক বা বন্ধন যদি না থাকে তাহলে দেশকে এগিয়ে নেয়াটা কঠিন। তাই এ দুই সেক্টরের মধ্যে আরও সম্পর্ক বাড়িয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘৭০০ এর বেশি পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থাসহ জনবল দুই হাজার ৫০০ জনের মতো। অথচ শুধু তৈরি পোশাক খাতে জনবল ৪০ লাখ। পাবলিক সেক্টর বনাম প্রাইভেট সেক্টরকে কোনো প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিলে এটা সংখ্যাতত্ত্বে মিলে না।’

‘তাই প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে পাবলিক সেক্টরের রোলটা হবে সাপোর্টিং রোল। আর অ্যাকশন রোলটা হবে প্রাইভেট সেক্টরের’ যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আজকের আলোচনায় সরকারের মধ্যে ম্যানেজমেন্টে কিছু সমন্বয়হীনতার চিত্র উঠে এসেছে। এসব সমন্বয়হীনতা দূর করতে প্রতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে লেদার সেক্টর নিয়ে আমরা বসব। ইতোমধ্যে একটা মিটিং আমরা করেছি। সে মিটিং থেকে কিছু অ্যাকশান প্ল্যান তৈরিও করেছি। আমরা সব সেক্টরকে নিয়েও এভাবেই সামনে এগিয়ে যাব।’

জাফর উদ্দিন বলেন, ‘আজকে যে প্রকল্পটির উদ্বোধন হলো, এ প্রকল্পে চারটি সেক্টর নিয়ে কাজ হবে। তবে এটাও স্বীকার করি যে, আরও অনেক সেক্টর বাদ রয়ে গেল। সিরামিক, ফার্মাসিউটিক্যালসহ আরও কিছু সেক্টর রয়েছে, আমরা এগুলোকে নিয়েও আগামীতে কাজ করব।’

তিনি বলেন, ‘আজকের প্রজেক্টে ৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এটা অল্প হলেও খুব কাজে দেবে। তিনভাবে এটা দেয়া হবে। পাঁচ হাজার ডলার দেয়া হবে গ্যাপ অ্যানালাইসিস অ্যাসেসমেন্টের জন্য। পরবর্তী ধাপে আমরা ৪০ হাজার এবং দুই লাখ ডলার দেব। কাজেই আশা করি, একটা ভালো কাজ শুরু হলো।’

জাফর উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু আমি মনে করি, এটা আরও বেশি হওয়া উচিত। আমরা বর্তমানে যে পদ্ধতিতে জিডিপি নির্ধারণ করি তাতে মেয়েদের গৃহস্থালির কাজ যুক্ত নয়। মা-বোনদের কাজ এতে যুক্ত থাকলে জিডিপি আরও বেড়ে যেত।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি জসিম উদ্দিন, ইআরএফ প্রকল্প পরিচালক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ওবাইদুল আযম, ইআরএফের ডেপুটি টিম লিডার ইমদাদুল হক প্রমুখ।