রবিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২০
Home > জাতীয় > বিশ্বের মানুষ বুঝতেই চাচ্ছে না তারা মানুষ: সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার

বিশ্বের মানুষ বুঝতেই চাচ্ছে না তারা মানুষ: সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার

অনলাইন ডেস্ক ॥
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিচারপতি আব্দুর রউফ বলেছেন, বিশ্বের মানুষ বুঝতেই চাচ্ছে না তারা মানুষ। মানুষের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ আর এ সৃষ্টিজগতে নেই। মিথ্যা বলার সুযোগ এই মানুষকে দেয়া হয়নি। সেটার উৎকৃষ্ট উদাহরণ রাসুল (সা.)। আজ রাসুলের পথ থেকে সরে আসায় মুসলমানরা বিশ্বে দেউলিয়া।

‘বিশ্ব সংকট নিরসনে মহানবীর (সা.) আদর্শ’ শীর্ষক সীরাতুন্নবী (সা.) জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনে এ সেমিনার হয়।

মাওলানা আবু তাহের জিহাদীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আররি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আব্দুল মা’বুদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি আব্দুল রউফ বলেন, মানুষ হিসেবে সৃষ্টিজগতে তার অবস্থান জানা জরুরি, ইসলাম সম্পর্কে জানা জরুরি। আজ ইসলামকে এন্টি রিলিজয়ন, থিসিস ভাবছেন অনেকেই, কেন? ইসলামের বয়স কতো? এমন প্রশ্নের অনেক উত্তর আসবে। কিন্তু আসলে উত্তর কী? আসলে ইসলামের কোনো বয়স নেই। কারণ, ইসলাম সর্বজনীন, সব ধর্ম বর্ণ মানুষ, জীবকে নিয়েই ইসলাম। কোনো কিছুই এর বাইরে নয়। আর কোরআন জীবন্ত, কোরআন কথা বলে। প্রশ্ন করলে উত্তরও দেয়। সব সমাধান কোরআনেই।

তিনি বলেন, মানুষ সৃষ্টির সেরা মাখলুকাত, সেটা বোঝার উপায় কী? মানুষকে দেয়া হয়েছে বিশেষ জ্ঞান। আর ওই জ্ঞানে মানুষই সৃষ্টি নিয়ে কাজ করবেন, স্রষ্টাকে খুঁজবেন। ইসলামকে বুঝি। এটা জানান দিই যে, অমুসলিমরাও ইসলামের বাইরে নয়। সৃষ্টিকে জানলে স্রষ্টাকে জানা যাবে। ইসলাম সেই কথাটিই বলে। আল্লাহর সৃষ্টিকে নিয়ে যতক্ষণ কাজ করেছে ততক্ষণ মুসলমানদের কেউ হারাতে পারেনি।

‘ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে কোনো সংকীর্ণতা নেই। তাহলে মুসলমানদের কাজ কী? মুসলমানরা হবে সারা বিশ্বের কাজের সাক্ষি। মুসলমানরা হলো আদর্শ। মুসলমানরা কারো সম্পদ হরণ করতে পারে না, খারাপ কিছু করতে পারে না। কিন্তু সঠিক পথটা ভুলে কিন্তু আজ বিশ্বে মুসলমানরাই দেউলিয়া।’

ইসলামী ঐক্যজোটের আমির আব্দুল লতিফ নেজামী বলেন, মতনৈক্য থাকতেই পারে। কিন্তু মুসলিম উম্মাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এক প্লাটফর্মে আসতে হবে।

অ্যাডভোকেট আব্দুল বাতেন বলেন, ‘মুসলমানরা মার খাচ্ছেন। সবক্ষেত্রে মার খাচ্ছেন। তাওহিদের একাত্মবাদকে তাই ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের সংকট কোথায়, সেটা ঠিক করতে হবে।’

‘আমাদের সমাজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে। কোর্টে মামলা হচ্ছে। মামলায় মেয়ের অভিযোগ, সে পিতার কাছে নিরাপদ না। কিন্তু আমাদের সবার পথ তো ছিল একটাই সিরাতুল মোস্তাকিমের পথ।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দীন কাদেরী বলেন, বাংলাদেশসহ ৫৩ মুসলিম দেশে যা হচ্ছে তা মঞ্চস্থ করছে ইহুদি খ্রিস্টানরা। এটা আমাদের ভাঙতে হবে। শান্তির সংকট বড় সংকট। রাসুলের আদর্শই পারে এই সংকট কাটাতে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব অনুষদ ও সাবেক চেয়ারম্যান দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের সাবেক ডিন আবুল কালাম পাটোয়ারী বলেন, আমরা আল কোরআন থেকে দূরে সরে গেছি, রাসুলকে ভালোবাসা ভুলে গেছি, আল্লাহর ইবাদাত ছেড়ে দিয়েছি। যে কারণে আমাদের ওপর জুলুম নির্যাতন নেমে এসেছে।